Thursday, 04.27.2017, 9:37 PM
My site
বেড়ানো
Login form
Search
Calendar
«  April 2017  »
SuMoTuWeThFrSa
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30
মালয়েশিয়ায় নতুনভাবে পরিচিতি পাচ্ছে বাংলাদেশ

 

 বিমানের ছোট কাঁচের জালানায় চোখ রাখি। ককপিট থেকে উড়োজাহাজ দ্রুত গতিতে দৌড়াতে দৌড়াতে শূন্যে উঠে গেল। রাজধানীর ঢাকার আলো ঝলমল রাত ফিকে হতে থাকে। যতই উপরে উঠছি ততই নীচে আলোর রেখা ছোট হচ্ছে। একসময় বিন্দু হয়ে গেল সব আলো। ঘিরে ধরল অন্ধকার। বাইরে কিছুই দেখা যায় না।

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিমান কুয়ালামপুরের দিকে। কানের পর্দায় প্রচন্ড প্রেসার  নিয়ে ক্যামেরাম্যান মনুর সঙ্গে গল্প আর বেশী এগোতে চায় না। বিমান বালাদের দেয়া রাতের খাওয়া সেরে ঝিমুনীর চেষ্টা। ঘুম আসে না। স্মৃতির পাখীরা ডানা মেলে।

মন যায় ঢাকার বাসায়, কুমারখালীর বাড়িতে, স্মৃতির শহর কুষ্টিয়ায়। ৯৩ সালে বাড়ি থেকে কুষ্টিয়ায় এসেছিলাম। সাংবাদিকতার নানান ক্ষেত্র ঘুরে ১১ বছর পর চলে এলাম ঢাকায়। আর আজ মালয়েশিয়া যাচ্ছি। তবে কুষ্টিয়া বা ঢাকায় আসার মত এ যাওয়া নয়। কয়েকদিনের জন্য। সাতদিন পরই ফিরবো। তাই মালয়েশিয়ার এই যাত্রা আমার কাছে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের উপজেলা শহরে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। কুষ্টিয়ায় থাকতে আমরা মাঝে মাঝে দৌলতপুর, মিরপুর, ভেড়ামারা বা কখনো খোকসা,কুমারখালী ও সদরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতাম দল বেঁধে। কখনো বিশেষ রিপোর্টের খোঁজে, কখনো বিশেষ কোন অনুষ্ঠানে। তবে প্রায় নিঃসঙ্গ এই মালয়েশিয়া যাত্রায় কুষ্টিয়ার সেই আনন্দময় ভ্রমণকে থেকে মিস করি।

এসব ভাবতে ভাবতে ভোর ৬টার দিকে আবারো বেল্ট বাধার তাগিদ দেয় বিমান বালারা। প্লেন একটু পরই ল্যান্ড করবে। বেল্ট বেঁধে কাঁচের জালানায় আবারো চোখ রাখি। সকালকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত প্রকৃতি। আহামরি কিছু চোখে পড়ে না। প্লেন থেকে নেমে মালয়েশিয়ার বিমান বন্দর পা রেখেই কিছুটা অবাক হই। একি মালয়েশিয়ার এয়ার পোটর্? না, ইউরোপের কোন এয়ার পোর্টে নানা দেশের মানুষের ভীড়। গতির সঙ্গে তাল দিয়ে বিদ্যুৎ চালিত ট্রেনে উঠি। বিশাল এয়াপোর্ট। ট্রেনে চড়ে যেতে হলো ইমিগ্রেশন ও  কাষ্টমস বিভাগে। মালয়েশিয়া সেই কাজটি করেছে যাতে একজন বিদেশী সেদেশে গিয়ে এয়ারপোর্ট থেকেই ভালোলাগা শুরু হয়। পজিটিভ ধারণা হয় দেশটি সম্পর্কেও।সময় পেয়েই মোবাইলের সিম বদলাই।বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার মোবাইলের সিম যুক্ত করি।একটু পরেই বেজে ওঠে ফোন।শংকর পোদ্দার জানান, তিনি আমাদের জন্য বাইরে অপেক্ষা করছেন।

এয়ারপোর্ট থেকে আমরা মূল রাজধানীর দিকে রওনা দিলাম।ঝকঝকে মসৃণ পথ।দু’পাশের বেশিরভাগই ছোট-বড় পাহাড়্‌ । মাঝে মাঝেই ছবির মত দৃশ্য।বিমানে সারারাত নির্ঘুম কাটালেও গাড়ীতে কোন ক্লান্তি নেই।নতুন দেশ। যা দেখছি ভালো লাগছে।একঘণ্টার মধ্যেই আমরা আমপাং-এ।উঠলাম পাঁচতারা হোটেলে।পরদিন দুপুরে গেলাম স্বপ্নের টুইন টাওয়ার দেখতে।নাইন ইলেভেনে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর মালয়েশিয়ার এই টুইন টাওয়ার সারাবিশ্বের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।নানাদেশের পর্যটকদের কলরবে মুখরিত হয়ে আছে ।

সেখান থেকে রাতে বাংলা খাবারের জন্য যেতে হলো কোটারায়া। বেশকয়েকটি দোকান আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলায় সাইনবোর্ড লেখা । সঙ্গে ছিলেন প্রবাসী ব্যবসায়ী  মিলন। হোটেলে বসে শুধু বাংলায় কথাবার্তা শুনি। মিলন জানালো,কুয়ালামপুরের ব্যস্ত এলাকা কোটারিয়ার এই সড়ক এখন বাংলা এষ্টেট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।পাশে রয়েছ্‌ে চায়না এস্টেট ।চীনা বংশোদ্ভূত মালয়েশিানদের জায়গা।আর এ সড়কে বাঙালীরা বেশী বলেই অনেক বলতে শুরু করেছে বাংলা এস্টেট।ট্যাক্সি ড্রাইভারদের বাংলা এস্টেট বললে এয়ারপোর্ট থেকে সোজা নিয়ে আসে এখানে।বেশকয়েকটি হোটেল রেষ্টুরেন্টসহ এখানকার অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশীদের মালিকানায়। প্রবাসী অনেক বাংলাদেশীদেরও প্রতিদিনের আড্ডাস্থল এই কোটারায়া।

এখানে বাংলাদেশের স্বাদের মাছ-ভাত খেতে খেতে শুনলাম মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কৃষি শ্রমিকরা সুনাম করেছে।দেখতে ইচ্ছে হলো।একদিন ভোরে রওনা। রাজধানী কুয়ালামপুর থেকে আড়াইশ’ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ী জনপদ ক্যামেরুন হাইল্যাণ্ড। পথে মাইলের পর মাইল জুড়ে পাম বাগান।রাবার বাগান।তবে ক্যামেরুনে নেই।সেখানে চীনা কৃষকদের দিয়ে সিম চাষ করাচ্ছেন বিক্রমপুরের আওয়াল হোসেন রাজন।মালয়েশিয়ায় সিম চাষ হয়না।কারণ সিমের ক্রেতা নেই। রাজন সেই সিম মালয়েশিয়ান কর্মিদের দিয়ে প্রসেস করে রপ্তানী করেন ইউরোপের বাজারে।বিশেষত বৃটেনে।তার বার্ষিক টানওভার ৪ মিলিয়ন ডলার। তার সেলেঙ্গরের প্রসেসিং কারাখানায় কাজ করে মালয় মেয়েরা। তারাই ভালো সিম বাছাই করে প্যাকেট করে। এরপর শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কন্ট্রেনারে পাঠানো হয় বিদেশে । গতরাতেই তার কারখানা দেখেছি। আজ পাহাড়ের ঢালে রাজনের সিম ক্ষেত দেখে গেলাম বাংলাদেশী কৃষকদের দেখতে।

রাতে বৃষ্টি হয়েছে। তাই আমরা তাপার পুরানো সড়ক দিয়ে আসিনি।বৃষ্টি হলে পাহাড়ী ওই পথ বিপদজনক হয়ে ওঠে।বেশী সময় লাগে।তাই নতুন প্রসস্থ সড়ক দিয়ে পাহাড় বেয়ে ক্যামেরুনের কেন্দ্রস্থলে এসেই এক সবজী দোকনে দুই বাংলাদেশীর দেখা পেলাম। তারা নিয়ে গেল বারেক মিয়ার কাছে।বাড়ি দাউদকান্দি।চীনা মালিকের অনুমতি নিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলাম সবজী বাগান দেখতে। পাহাড়ী শহরের মাঝে মূল রাস্তার পাশে দোকান।ঠিক তার পিছন দিকে টিলার মতো পাহাড়।বারেকের পিছে পিছে উঠে গেলাম উপরের সবজী বাগানে।গিয়ে তো অবাক। উপর থেকে শহরটা ছবির মতো দেখায়। বাজার,দোকানপাট । কিন্তু পুরো উপত্যকা জুড়েই বাগান আর বাগান।নানা রকমের সবজী,সবজীর চারা।পলিথিনের ঘর করে তার নীচে এসবের চাষ চলছে।

১২ বছর ধরে এখানে আছেন বারেক।বাগানের সঙ্গেই পাহাড়ী ঢালে তার থাকার জায়গা।একসঙ্গে তিন বাংলাদেশী থাকেন। নিজেরাই রান্না করেন। পঞ্চাশ ছুই ছুই বারেক জানালেন,এখানে বাংলাদেশের প্রায় সব সবজীই হয়। দেখি টমাটো ধরে আছে ,আছে বরবটি, শশা। বাগান থেকে নীচের দোকানে নিয়ে কার্টুনে ভরে এসব সবজী বিক্রি করেন মালিকরা।বারেকের মতে, ক্যামেরুন হাইল্যাণ্ডের পাহাড়ে কৃষি জমিতে কাজ করছে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক।বছরের পর পর বছর ধরে তারা চীনা মালিকদের কৃষি খামারে সবজী চাষ করে চলেছেন।পাহাড়েও ফোটচ্ছেন বাহারী ফুল।

ক্যামেরুন হাইল্যাণ্ডে এসে মনে হলো যেন কোন চীনা উপত্যকায় আছি। পাহাড়ী এই জনপদের রাস্তা, দোকান-পাটে বেশিরভাগই চীনা চেহারার মানুষ।বাড়িগুলোও চাইনিজ মডেলের। উপত্যকা জুড়েই ফুল,ফল ও সবজী উৎপাদন। সবজীর চারাও । মালয়েশিয়ার সবজী চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করে থাকে ক্যামেরুনের কৃষকরা।আর সেই কৃষকদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিক। মাসে ১৪ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে অনেকেই আত্মীয়-স্বজন এনেছেন । রাজন আর শংকরের সঙ্গে আরো কয়েকটি কৃষিক্ষেতে গেলাম।তাদের একটিতে প্রায় একশ বাংলাদেশী কাজ করেন।ভারত ও নেপালের কিছু শ্রমিকও আছে।সেটারও মালিক চীনা। সাক্ষাতকাকার নিতে চাইলাম।কিছুতেই দেবেনা।বলল,আমার বোন দেবে।সে কোথায়? দোকানে।গেলাম,একের পর এক বোন বদলায়।আসে,হাসে,চলে যায়।ব্যাপার কি? শেষে ওই দোকনের বাংলাদেশী কর্মচারী রহস্য উদঘাটন করলো। ইংরেজি বলতে তাদের এতা লজ্জা।পরে তাদের মহিলা ম্যানেজার মুখ খুললো।অবশ্য সেও চীনা।তবে ভালো ইংরেজি বলে।

ফেরার সময় পথে একের পর এক চা বাগান।শ্রীমঙ্গলে একরম বিশাল আয়তনের চা বাগান আমি দেখিনি।পাহাড়ের গায়ে আকাশের মতো সবুজের চাদর বিছিয়ে আছে চা বাগান। সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ানদের ব্যবসা। অসংখ্য পর্যটক। উঁচু পাহাড়ের গায়ে ইণ্ডিয়ান টি’র অফিস।পাশেই রেষ্টুরেণ্ট থেকে চা বাগান ছবির মতো। নামলাম।চা খেতে খেতে ১২ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকা রাজন জানালেন, ক্যামেরুনের বেশিরভাগ কৃষি কামারের মালিকই চীনা বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ানরা। কারণ আদি মালেশিয়ান বা মালয়রা কৃষিকাজের সঙ্গে তেমন জড়িত  থাকতে চায় না । অথচ ব্যবসা বোঝে চীনা আর ভারতীয় বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ানরা । পরিশ্রমও করতে পারে তারা।তাদের কাছেই আধুনিক পদ্ধতির কৃষিকাজ শিখে পাহাড়ে সবজীচাষ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এসব প্রবাসী বাংলাদেশী কৃষকরা।অনেক পুরানো শ্রমিক মালিকদের কাছ থেকে ক্ষেত ইজারাও নিচ্ছেন । চীনা মালিকদের জমি আর অর্থের সঙ্গে উৎপাদনে অংশ নিচ্ছেন তারা।বাংলাদেশী কৃষকরাও এখন মালয়েশিয়ার সবজী বিপ্লবের ভাগিদার ।

বেশ কয়েকটি ছবি তুলে কখনো উপর দিকে আবার বখনো নীচের ঢালু পথ বেয়ে গাড়ী চললো কেএল এর দিকে। তখন পাহাড়ের বুকে পড়ন্ত বিকেলের আলো।বোধ হয় একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে। সূর্য যেন বিদায়ের অপরুপ সাজে সেজেছে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে।কিন্তু উপর থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত দেখে আবারও থামতে হলো। জলপ্রপাতের শীতল রুপালী জলে পা ভিজিয়ে আবার সমতলের দিকে।

পরদিন বিকেলে নরসিংদীর বেলাবোর প্রবাসী ছাত্র তারেক নিয়ে গেল তার বাসায়।বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী ছাত্র থাকে একসঙ্গে। ওরা জানালো, মালয়েশিয়ায় পড়তে যাওয়া অনেক বাংলাদেশী ছাত্রই পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরী করে খরচ যোগাচ্ছেন। তারেকের সঙ্গে মনো রেলে উঠে পূর্তজায়ার পথে নামলাম। প্রশাসনিক রাজধানী পূর্তজায়ার রাতের দৃশ্য দেখে আমপাং এ ফিরলাম।গল্পে গল্পে জানা গেল,  আদি মালয় এবং চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ানদের জন্য রয়েছে নিজেদের ভাষার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৪র্থ বৃহৎ জনগোষ্ঠি বাঙালী।এদের আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় বাংলাদেশীদের লেখাপড়া ইংলিশ মিডিয়ামে।

শাহ আলম হয়ে আরেকদিন গেলাম নিলাই শিল্প এলাকায় ।সেখানে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক। ওখানকার সবাই একনামে চেনে নড়াইলের শাহীন সরদারকে। ১২ বছর আগে এসেছিলেন শ্রমিক হয়ে।সে এখন আইজিসি নামের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর প্রোডাকশন ম্যানেজার।এলাকার কয়েকশ’ মানুষের চাকরি দিয়েছেন । মালয়েশিয়ায় এরকম কয়েক হাজার সফল বাংলাদেশী রয়েছেন। অনেকেই সেখানে বিয়ে করেছেন।বাড়ি-গাড়িও করেছেন । শাহীন গর্বের সঙ্গে জানালো,ক্লিনার থেকে তিনি ম্যানেজার।

ঝকঝকে সড়ক আর যানবাহনের এই গতির মতই এগিয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি। হরতাল ধর্মঘট নেই। বিনা মর্টেজে স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ নিয়ে.যে কেউ কিনতে পারে গাড়ী-বাড়ি।সবকিছুর জন্যই আছে ঋণ।সরকার ঋণকে উৎসাহিত করে ।মনে করে.. ঋণী হলে শোধ দেবার জন্যই সে কাজ করতে বাধ্য হবে। মালয়েশিয়ানরা ঘরের রান্নার চেয়ে বাইরে খেতেই বেশী পছন্দ করে।রান্না করে সময় নষ্ট না করে সেই সময়ে কাজ করে বেশী টাকা আয় করে কম খরচে বাইরে খায় তারা। সাতদিনের সফর শেষে ফিরবার পালা।

২৫ নভেম্বর  রাত সাড়ে ১০টায় আমাদের ফিরতি ফ্লাইট।সাড়ে ৮টার দিকে এয়ারপোর্টে পৌছে ইমিগ্রেশন-কাষ্টমস চেক করিয়ে লাগেজ দিয়ে ১০টার মধ্যে একবারে প্রস্তুত হয়ে গেলাম বিমানে ওঠার জন্য।সময় চলে যায়,কিন্তু বিমানে ওঠার জন্য ডাক পড়েনা।যাত্রীরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে।শেষমুহুত্যে ঘোষণা দিল বিমান ছাড়তে আধাঘণ্টা দেরি হবে।আধঘন্টা পর আবার ঘোষণা এখনো উড়োজাহাজটি প্রস্তুত হয়নি।আর একটু দেরি হবে।সময় যায়না, বাংলাদেশের ট্রেন বা বিমানের মতো এদের বিমানেরও কি টাইম ঠিক নেই!সাড়ে ১২টার দিকে চুড়ান্ত ঘোষণা, উড়োজাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে,এই ফ্লাইট যাবে আগামীকাল দুপুর ২টায়।কি হবে এখন? যাদের সঙ্গে ছিলাম সবাইকে বিদায় দিয়েছি।তারপর মাঝরাত।ভাবতে ভাবতেই ব্যবস্থা।এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে যাত্রীদের পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পরদিন সময়মতো আবার নিয়ে আসবে তারাই।রাত ২টায় ফিরলাম হোটেলে।সুসজ্জিত বিশাল স্যুট।বড় ড্রয়িং রুম সোফা,বেড রুম,দু’রুমে দুটো টিভি,সামনে বারান্দা। বাথট্যাব, টয়লেটেও ফোনসেট।

 রুমে ফিরেই ক্ষিধের কথা মনে হলো। এয়ারপোর্টে ঢুকেছি সন্ধ্যায়।তারপর যেভাবে সময় পার হয়েছে পেটের কথা মনেই হয়নি।আর আমরা জানতাম প্লেনে উঠেই খাব।সেজন্য চিন্তাও ছিলনা।কিন্তু রিসিপশনে খাবার কথা বলতেই জানানো হলো,এখন খাবার কোন ব্যবস্থা নেই। ডিনার টাইম শেষ হয়ে গেছে। সকালে ব্রেকফাষ্ট। ভাবলাম ঠিক আছে, বাইরে থেকে খেয়ে আসি। খোঁজ নিতেই জানলাম,আশপাশে কোন দোকান-পাট বা হোটেল কিছুই নেই।দশ/পনের মিনিট গাড়ী দূরত্বে হোটেল পাওয়া যাবে।মানে ১০/১৫ কিলোমিটার দূরে।ওকে,সেখানেই যাই।না খেয়ে তো আর রাত কাটানো যাবেনা।কিন্তু রিসিপশনের সুকণ্ঠি সর্বশেষ দুঃসংবাদটা দিল এবার।সরি স্যার,রাত আড়াইটা। এখন কোন গাড়ী নেই এখানে।যাবার কোন ব্যবস্থাও নেই!সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া কোন উপায় নেই।আর ততক্ষণে আমাদের রুম বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারাও। তাহলে?

 ফোন ছেড়ে এসে সোফায় বসে পড়লাম। কাছে কিছুই নেই।হাতে যে ছোট ব্যাগটি ছিল,তার মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে কেনা কিছু খাবার জিনিস ছিল।কিন্তু ব্যাগ টানবো বলে সেটাও শেষ মুহূর্ত্যে লাগেজের সঙ্গে দিয়ে ফ্রি হয়ে গেছি। একটু বসে থেকে উঠলাম।রুমের ফিরিজে,সেলফে হাতরলাম।না খাবার মতো কিছু নেই।টেবিলে চোখ গেল । কফি আছে,থ্রি ইন ওয়ান।গুড়ো কফির সঙ্গে দুধ-চিনি মেশানো। আছে গরম পানি করে কফি বানানোর ব্যবস্থাও।শুধু আমাদের না,সব যাত্রীরই একই অবস্থা।পকেটে টাকা আছে,রাত কাটানোর জন্য পাঁচতারা হোটেলের স্যুট আছি।কিন্তু পেটে খাবার নেই। অবশেষে কফি খেয়েই রাত কাটাতে হলো।

আর পরদিন দুপুর ২টার বিমান আর লেটে ছাড়েনি।বরং রাতের ক্ষতি অন্যভাবে পুষিয়ে দিয়েছিল মালয়েশিয়া এয়ার লাইন্স।বিমান লেট বাবদ তারা ১শ রিঙ্গিতের কুপন ধরিয়ে দিয়েছিল হাতে।বিমানের ভেতরের ওদের দোকান থেকে ১শ’ রিঙ্গিতের যা খুশূ কিনতে পারেন। রাতের ওই ক্ষিধের কাছে ১শ’ রিঙ্গিত বা ২হাজার টাকার ক্ষতি পূরণ তেমন কিছু নয়।তবে ভালো লাগলো বিমান লেট করে ক্ষতি করার তাদের উপলব্ধিটা দেখে। আমরা ক’জন তা করি?
Entries archive
Our poll
Rate my site
Total of answers: 9
Site friends
  • Create your own site
  • Statistics

    Total online: 1
    Guests: 1
    Users: 0

    Copyright MyCorp © 2017